পেচারথলে জাল সরকারি সিল ও নথিপত্রসহ যুবক আটক, উদ্ধার ২৮টি সিল

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬: সরকারি ও ব্যক্তিগত নথিপত্র তৈরি করে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে পেচারথল থানাধীন নালকাটা এলাকার এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম পীযূষ দেবনাথ। তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রায় ২৮ থেকে ৩০টি সিল, প্যাড ও অন্যান্য নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অভিযোগ, পেচারথল থানাধীন নালকাটা শিববাড়ি বেল্লপুর এলাকার বাসিন্দা পীযূষ দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও ব্যক্তিগত নথিপত্র তৈরি করে দেওয়ার নাম করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। সোমবার রাতে নারায়ণপুর শিববাড়ি এলাকার বাসিন্দারা তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সিল, প্যাড ও স্ট্যাম্প উদ্ধার করে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া সিলগুলির মধ্যে এসডিএম কুমারঘাট, বিডিও পেচারথল, বিডিও কুমারঘাট, জেডিও অফিস এবং মেডিক্যাল অফিসারের সিলসহ একাধিক সরকারি দপ্তরের সিল রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত পীযূষ দেবনাথ পাল্টা অভিযোগ করে দাবি করেছেন, বিপ্লব দে, বিকাশ চৌধুরী ও নিক্কা সরকার নামে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে মারধর করে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেন। তাঁর আরও দাবি, এলাকার ম্যাডাম সান্তনা চাকমা ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত যুবক চারজনের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে, এলাকার কমন সার্ভিস সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত বাপন দাসের কাছ থেকে কাজের প্রয়োজনে সিলগুলি পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত। এ নিয়ে বাপন দাসকে ঘিরেও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া সিল ও নথিপত্রের উৎস, সেগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হতো এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন কুমারঘাট মহকুমা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment