প্রগতি ত্রিপুরা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: বিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার রোধ এবং এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে উদয়পুর প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে এক বিশেষ সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা নাগাদ উদয়পুর ভগিনী নিবেদিতা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়।
শিবিরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং উদয়পুর প্রেস ক্লাবের বরিষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তারা মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার, অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পড়াশোনায় এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিক্ষা, যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন বিনোদনে যুক্ত থাকা, শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
অতিরিক্ত সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে চোখের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্ভাবনার কথাও শিবিরে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহারে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া, সময়ের অপচয় এবং পরিবার ও সমাজের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়েও শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।
বক্তারা বলেন, মোবাইল ফোন নিজে ভালো বা খারাপ নয়; এর সুফল বা কুফল নির্ভর করে ব্যবহারের ধরন ও মাত্রার ওপর। তাই প্রয়োজনীয় কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বই পড়া, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং অভিভাবকদের নজরদারির গুরুত্বও তুলে ধরেন বক্তারা। প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না হয়ে, প্রযুক্তিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সচেতনভাবে ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয়।
উদয়পুর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে সচেতন করে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগকে উপস্থিতদের একাংশ ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।








