প্রগতি ত্রিপুরা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: চুরি হয়ে যাওয়া একটি বুলডোজার উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধর্মনগরে। বুলডোজারটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর পরিবর্তন করে সেটিকে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অভিযোগের তীর এক শাসকদলীয় যুব মোর্চার নেতার বিরুদ্ধে। তবে সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখন পুলিশি তদন্ত সাপেক্ষ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালাছড়ার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস (পিতা: আব্দুর শহিদ) তাঁর নিজ নামে নিবন্ধিত ‘TR 02L1838’ নম্বরের বুলডোজারটি গত ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি ধর্মনগর রাজবাড়ী মণ্ডপপাড়ার বাসিন্দা ঠিকাদার দীপন নাথ এর ঠিকাদারি সংস্থা ‘ডি এন কনস্ট্রাকশন’-এর কাছে মাসিক ভাড়ায় দেন। কয়েক মাস সফলভাবে চলার পর গত বছরের ২৬ অক্টোবর মালিক আব্দুল কুদ্দুসকে জানানো হয় যে, সাতচাঁদ-মনুবাজার এলাকার পার্থজিৎ চক্রবর্তীর বাড়ির কাছ থেকে বুলডোজারটি চুরি হয়ে গেছে। এরপর ২৮ অক্টোবর মনুবাজার থানায় এ বিষয়ে একটি জিডি এন্ট্রি করেন মালিক।
মালিকের দাবি, পুলিশ দীর্ঘ দিন তদন্ত ও খোঁজাখুঁজি করেও বুলডোজারটির সন্ধান না পাওয়ায় পরবর্তীতে আদালতে শর্তসাপেক্ষে ফাইনাল রিপোর্ট পেশ করে। তবে হাল ছাড়েননি মালিক আব্দুল কুদ্দুস; তিনি নিজের উদ্যোগেই বুলডোজারটির সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
অবশেষে গত শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে মালিক খবর পান যে, তাঁর চুরি যাওয়া বুলডোজারটি ধর্মনগর দক্ষিণ হুরুয়া এলাকার একটি সয়াবিন ফ্যাক্টরির আশপাশে পার্ক করে রাখা রয়েছে। এই খবরের ভিত্তিতে তিনি ধর্মনগর থানায় বিষয়টি জানান। পরে পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালিয়ে বুলডোজারটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
তবে উদ্ধার হওয়া বুলডোজারটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর সামনে আসতেই নতুন করে রহস্য দানা বেঁধেছে। মালিকের দাবি, তাঁর আসল বুলডোজারটির নম্বর ‘TR 02L1838’ হলেও উদ্ধার হওয়া গাড়িতে বর্তমানে ‘NL 04DA0049’ নম্বর খোদাই করা রয়েছে। বর্তমান রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সঙ্গে গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বরের কোনো মিল না থাকলেও, মালিকের কাছে থাকা মূল নথিপত্রের সঙ্গে চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বরের নিখুঁত মিল রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
আব্দুল কুদ্দুসের আরও অভিযোগ, যে স্থান থেকে বুলডোজারটি উদ্ধার করা হয়েছে, তার পাশেই ভাড়া নেওয়া ঠিকাদার দীপন নাথের দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড়ানো ছিল। এমনকি উদ্ধার হওয়া বুলডোজারটির বর্তমান রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি ‘ডি এন কনস্ট্রাকশন’-এর নামে করা হয়েছে বলেও তাঁর দাবি।
এই সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে মালিকের জোরালো প্রশ্ন—চুরি যাওয়ার এই ঘটনার আড়ালে বুলডোজারটি অন্যভাবে হাতিয়ে নেওয়ার কোনো সুপরিকল্পিত চক্রান্ত ছিল কি না? কীভাবে চুরি যাওয়া গাড়ি অন্যত্র পৌঁছাল, কেনই বা তার নম্বর পরিবর্তিত হলো এবং এর নেপথ্যেই বা কারা জড়িত—তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে। এখন ধর্মনগর থানার পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই আসল রহস্য ভেদ হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।








