অনলাইন ডেস্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন স্বাস্থ্য, আবহাওয়া, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিয়ে গুগলের উদ্যোগ তুলে ধরেছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই। তাঁর মতে, দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহার করা গেলে বৈজ্ঞানিক গবেষণার গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনেও এর বাস্তব সুফল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
সম্প্রতি নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ব্লগ পোস্ট শেয়ার করে গুগলের এআই-ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পের কথা জানান পিচাই। সেখানে তিনি বলেন, বাস্তব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে গুগল মূলত চারটি ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে—স্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়ার সঙ্গে মোকাবিলা করার সক্ষমতা, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ।
গুগলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের এআই প্রযুক্তি বর্তমানে ৩০০টিরও বেশি ভাষায় ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এবং প্রায় ৭০০ কোটি মানুষ এর আওতায় রয়েছেন। সংস্থাটির দাবি, এই পরিসর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৬ শতাংশকে প্রতিনিধিত্ব করে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এআই-এর ভূমিকা তুলে ধরতে গিয়ে পিচাই ‘আলফাজেনোম অ্যাটলাস’-এর উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানব জিনোমে সম্ভাব্য প্রায় ৯০০ কোটি একক-অক্ষরের জেনেটিক পরিবর্তনের একটি মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। গবেষকদের কাজকে এগিয়ে নিতে এই তথ্য উন্মুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এআই-এর অর্থনৈতিক প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রেও গুগল একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। পিচাই জানান, ‘এআই অ্যান্ড ইকোনমি অ্যাটলাস’-এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে, তার একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহারে জোর দিচ্ছে গুগল। সংস্থার ‘ওয়েদারনেক্সট’ প্রকল্পের আওতায় তৈরি হয়েছে নতুন প্রজন্মের বৈশ্বিক আবহাওয়া মডেল ‘ওয়েদারনেক্সট ৩’। গুগলের দাবি, আগের তুলনায় এই মডেল এক দিন বা তারও বেশি সময় আগে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি নির্ভুলতা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই গুগলের কয়েকটি পণ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্তকরণেও এআই-ভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থার ব্যবহার তুলে ধরেছে সংস্থাটি। গুগলের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আর্থ-সামাজিক তথ্য একত্র করে ‘প্ল্যানেটারি প্রেডিকশন ইঞ্জিন’ তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ও মানবিক সংকট সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। গুগল জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা সংক্রমণের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)-এর ২১টি স্বাস্থ্য সূচকের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী শনাক্ত করার কাজেও এর প্রয়োগ হয়েছে।
তবে এআই-এর সম্ভাবনার পাশাপাশি এর সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকির কথাও স্বীকার করেছে গুগল। সংস্থাটির মতে, প্রযুক্তি নিজে থেকেই মানুষের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল নিশ্চিত করতে পারে না। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামাজিক বৈষম্য, বিদ্যমান ব্যবধান এবং প্রযুক্তির সুবিধা থেকে কোনো জনগোষ্ঠী বাদ পড়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
গুগলের বক্তব্য, এআই-এর সুফলকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রযুক্তি সংস্থা, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং বৃহত্তর সমাজ—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব ক্ষেত্রে এআই মানুষের উপকার করতে পারে, সেখানে অযথা এর ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার বিপরীত ঝুঁকিটিও বিবেচনা করা জরুরি।








