অনলাইন ডেস্ক,২৩ জুন, ২০২৬: অটল বিহারী বাজপেয়ী রিজিওন্যাল ক্যান্সার সেন্টারের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। আজ স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে এই ক্যান্সার হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। সরেজমিনে যাবতীয় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনি একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অটল বিহারী বাজপেয়ী রিজিওন্যাল ক্যান্সার হাসপাতালে অচিরেই বোনম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে। হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার জন্য সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। ক্যান্সার হাসপাতালের উপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে তিনটি ডে কেয়ার সেন্টারে অঙ্কোলজিস্টদের সেন্টারের পরিদর্শন সুনিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন তিনি।
উল্লেখ্য ধলাই, গোমতী ও উত্তর জেলাতে তিনটি ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে। ডে-কেয়ার পরিষেবার জন্য প্রচুর মানুষ ক্যান্সার হাসপাতালে আসেন। লক্ষ্য হলো রোগীরা যাতে নিজ নিজ জেলাতেই এই পরিষেবা লাভ করতে পারেন। সেই উদ্দেশ্যে প্রতি মাসে একবার অঙ্কোলজিস্টরা সংশ্লিষ্ট ডে-কেয়ার সেন্টারগুলিতে যাবেন এবং সেখানকার চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেবেন। ফলে রোগীদের জেলা থেকে ওরাল কেমোথেরাপি প্যালিয়েটিভ কেয়ার সহ বিভিন্ন পরিষেবা নিতে আগরতলা ছুটে আসতে হবে না। এর ফলে রোগীদের যেমন পরিষেবা পেতে সুবিধা হবে তেমনি ক্যান্সার হাসপাতালের উপর চাপ কমবে।
ক্যান্সার হাসপাতাল থেকে অস্ত্রোপচারের জন্য বর্তমানে কোনও রোগীকে রেফার করতে হচ্ছে না। আঞ্চলিক ক্যান্সার কেন্দ্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, বর্তমানে এই হাসপাতালে যে সমস্ত সরঞ্জাম রয়েছে সেগুলির নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এই হাসপাতালের মাধ্যমে জেলাগুলিতে ডে কেয়ার সেন্টার নিয়মিত সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য সচিব জানান, ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসার অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। উন্নতমানের ল্যাব রয়েছে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বোনম্যারো ওয়ার্ডটি যেন দ্রুত চালু করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যে ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি জানান, অমৃত ফার্মেসিতে সব ধরনের ওষুধই উপলব্ধ থাকে, আর যা উপলব্ধ থাকে না, তা খুব কম সময়ের মধ্যে নিয়ে আসা হবে। তিনি বলেন, এই হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, জিবিপি হাসপাতালের সামনে একটি নাইট শেল্টার তৈরি হয়েছে। এখানে অনেক রোগী আছেন যাদের পরিবারের লোকদের থাকার সমস্যা হয়। নগর উন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে সেই নাইট শেল্টারটি যত দ্রুত সম্ভব চালু করার চেষ্টা করা হবে।
স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে জানান যে অটল বিহারী বাজপেয়ী রিজিওন্যাল ক্যান্সার সেন্টারের পরিকাঠামো বেশ ভালো এবং কাজও খুব সুন্দরভাবে চলছে। ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য যে ধরনের সহযোগিতাই প্রয়োজন হোক না কেন, তা রোগী কল্যাণ সমিতি, রাজ্য সরকার এবং এনএইচএম এই তিন জায়গা থেকেই সাহায্য করা হবে বলে স্বাস্থ্য সচিব জানান। স্বাস্থ্য সচিবের পরিদর্শনকালে ন্যাশনাল হেলথ মিশন ত্রিপুরার মিশন ডিরেক্টর সাজু ওয়াহিদ এ, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবাশ্রী দেববর্মা, অটল বিহারী বাজপেয়ী রিজিওন্যাল ক্যান্সার সেন্টারের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ শিরোমনি দেববর্মা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব ডাঃ সৌভিক দেববর্মা ও ন্যাশনাল হেলথ মিশন ত্রিপুরার স্টেট প্রোগ্রাম অফিসার ডাঃ সারয়াউতি রিয়াং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।







